ই নামজারি যাচাই করার নিয়ম বা অনলাইনে জমির খারিজ চেক করার পদ্ধতি দেখানো হয়েছে এখানে। নামজারি আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা কীভাবে যাচাই করবেন জানতে শেষ অব্দি পড়ুন।
যেকোনো জমির মালিকানা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলে নামজারি আবেদন করতে হয়। জমি ক্রয়-বিক্রয় করার পর কিংবা ভাগ বাটোয়ারা করার পর নামজারি আবেদন করা হয়। আবেদন করার পর আবেদনটি নিষ্পত্তি হতে ২৮ দিন অব্দি সময় লাগে।
উক্ত সময়ের মাঝে আপনার নামজারি আবেদনটি কী অবস্থায় আছে বা নামজারি আবেদনটি অনুমোদন হয়েছে কিনা তা যাচাই করতে পারবেন। যাচাই করার পদ্ধতিটি নিম্নরূপ।
আলোচিত বিষয়বস্তু
ই নামজাই যাচাই করার নিয়ম
ই নামজারি যাচাই বা নামজারি আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে ভিজিট করুন https://mutation.land.gov.bd/ ওয়েবসাইট। অতঃপর, নিচের দিকে স্ক্রোল করে ড্রপ-ডাউন মেনুতে আপনার বিভাগের নামটি সিলেক্ট করুন। অতঃপর, ফাঁকা ঘরে আবেদন আইডি নাম্বারটি লিখুন।
সবশেষে, খুঁজুন বাটনে ক্লিক করুন। তাহলে একটি পপআপ আসবে। এখানে প্রথম ঘরে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বারটি লিখুন। নিচের ঘরে দেয়া অংকটির উত্তর লিখুন এবং খুঁজুন বাটনে ক্লিক করুন।
তাহলে আপনার ই নামজারি আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবেন। আবেদন অনুমোদন হলে ডিসিআর ফি পেমেন্ট করতে বলবে। ডিসিআর ফি পেমেন্ট করলে ডিসিআর কপি এবং খতিয়ানের কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।
অনলাইনে খারিজ চেক করার নিয়ম
জমি খারিজ আবেদন করার পর আবেদনটি অনুমোদন হয়েছে কিনা তা যাচাই করার জন্য খারিজ চেক বা ই নামজারি চেক করতে হয়। নিচে ধাপে ধাপে এই পদ্ধতিটি দেখানো হয়েছে।
ধাপ ১ – ওয়েবসাইটে প্রবেশ
জমির খারিজ যাচাই করতে ভিজিট করুন https://mutation.land.gov.bd/ ওয়েবসাইট। এই লিংকে ক্লিক করে সরাসরি ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারবেন।
ধাপ ২ – তথ্য পূরণ
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর নিচের ছবির মতো পেজ দেখতে পারবেন। একটু নিচের দিকে স্ক্রোল করে নামজারি আবেদন যাচাই করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে, প্রথমেই ড্রপ-ডাউন মেনুতে বিভাগের নাম সিলেক্ট করুন। তারপর ফাঁকা ঘরে নামজারি আবেদন আইডি নং লিখুন এবং খুঁজুন বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৩ – তথ্য যাচাই
খুঁজুন বাটনে ক্লিক করলে একটি পপআপ আসবে। এখানে, প্রথম ফাঁকা ঘরে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বারটি লিখুন। দ্বিতীয় ফাঁকা ঘরে “দ্বিতীয় ফাঁকা ঘরের উপরে দেয়া অংক” অংকটির সমাধান লিখতে হবে। অতঃপর, খুঁজুন বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৪ – খারিজ চেক
এই পদ্ধতি অনুসরণ করলেই আপনার নামজারি আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবেন। এখানে, আপনার নামজারি আবেদনটি অনুমোদন হয়েছে নাকি অঅনুমোদিত হয়েছে তা জানতে পারবেন।
নামজারি আবেদন অনুমোদন হলে DCR Fee পেমেন্ট করতে হবে। ডিসিআর ফি বাবদ মোট ১১০০ টাকা পেমেন্ট করতে হবে। ডিসিআর ফি পেমেন্ট করার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যম বিকাশ/নগদ/রকেট/উপায় কিংবা যেকোনো ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারবেন।
আবেদন ফি পেমেন্ট করা হলে DCR কপি এবং খতিয়ান ডাউনলোড করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন করে খতিয়ান কপি এবং ডিসিআর কপি পাওয়ার পর সেটি প্রিন্ট করে নিতে পারবেন বা পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড করে রাখতে পারবেন।
উক্ত খতিয়ান এবং ডিসিআর কপি ব্যবহার করতে পারবেন সকল কাজে। খতিয়ানটি QR যুক্ত হওয়ার কারণে আইনত বৈধ এবং সকল কাজে ব্যবহারযোগ্য। যা অফলাইনে সরাসরি আবেদন করে পাওয়া খতিয়ানের মতো সমান।
ই নামজারি আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা
ই নামজারি আবেদন করার পর আবেদনটি অনুমোদন হয়েছে নাকি বাতিল হয়েছে তা যাচাই করার জন্য ই নামজারি যাচাই করতে হয়। অর্থাৎ, নামজারি আবেদন করার পর আবেদন সফল হলে মোবাইল নাম্বারে একটি এসএমএস পাওয়া যায়।
উক্ত এসএমএস এ থাকা আবেদন আইডি নং ব্যবহার করে নামজারি আবেদনটি কী পর্যায়ে আছে তা জানার জন্য নামজারি যাচাই করা যায় বা মিউটেশন যাচাই করা যায়। মিউটেশন যাচাই করার পদ্ধতি ইতোমধ্যে দেখানো হয়েছে। উক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করে যেকোনো জমির মিউটেশন যাচাই করতে পারবেন।
শেষকথা
অনলাইনে ই নামজারি আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার পদ্ধতি বা জমির খারিজ যাচাই করার পদ্ধতি দেখানো হয়েছে এই পোস্টে। যারা নামজারি আবেদন করেছিলেন কিন্তু আবেদনটি অনুমোদন হয়েছে নাকি বাতিল হয়েছে তা জানেন না, তারা পোস্টে দেখানো পদ্ধতি অনুসরণ করে জেনে নিতে পারবেন।
সাধারণত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর
ই-নামজারি বা খারিজ সফলভাবে সম্পন্ন হতে সাধারণত কত দিন সময় লাগে?
ই-নামজারি আবেদন করার পর সাধারণত ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। তবে আবেদনপত্রের তথ্য এবং দলিলের জটিলতা বা শুনানির প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে এই সময় কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।
অনলাইনে নামজারি যাচাই করার পর অনলাইন কপি বা ডিসিআর কীভাবে ডাউনলোড করা যায়?
সহকারী কমিশনার বা এসিল্যান্ড অফিস থেকে আবেদনটি মঞ্জুর হওয়ার পর ডিসিআর ফি পরিশোধের জন্য আপনার ফোনে একটি এসএমএস আসবে। অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করার পর পুনরায় ‘আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা’ ট্যাবে গিয়ে আপনার আইডি ও এনআইডি দিয়ে লগইন করলে কিউআর কোডযুক্ত আসল ডিজিটাল খতিয়ান এবং ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিট বা ডিসিআর সরাসরি ডাউনলোডের লিংক পেয়ে যাবেন।
কিউআর কোড স্ক্যান করে কীভাবে নামজারি বা খারিজ খতিয়ান চেক করব?
আপনার স্মার্টফোনের ক্যামেরা বা যেকোনো কিউআর কোড স্ক্যানার অ্যাপ চালু করুন। এরপর নামজারি খতিয়ানের কাগজের নিচে থাকা কিউআর কোডের ওপর ক্যামেরাটি ধরুন। স্ক্রিনে একটি সরকারি লিংক চলে আসবে। সেই লিংকে ক্লিক করলেই ভূমি মন্ত্রণালয়ের সার্ভার থেকে মূল ডিজিটাল খতিয়ানটি আপনার মোবাইলে ভেসে উঠবে।
অনলাইনে প্রাপ্ত নামজারি খতিয়ানটি আসল নাকি নকল তা কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়?
যেকোনো নামজারি খতিয়ান আসল কিনা তা বোঝার জন্য খতিয়ানের ওপরে থাকা কিউআর কোডটি স্ক্যান করতে হবে। এছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের পোর্টাল বা dlrms.land.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে খতিয়ান নম্বর ও সংশ্লিষ্ট দাগ নম্বর মিলিয়ে দেখলেই এর সত্যতা যাচাই করা যায়। কোনো ভুয়া খতিয়ানের তথ্য সরকারি ডাটাবেজে পাওয়া যাবে না।
ই-নামজারি যাচাই করার জন্য সাধারণত কী কী তথ্যের প্রয়োজন হয়?
অনলাইনে নামজারি বা খারিজের আবেদনের অবস্থা যাচাই করতে মূলত দুটি তথ্যের প্রয়োজন পড়ে। প্রথমটি হলো আবেদন করার সময় আপনার মোবাইলে এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমে পাঠানো ‘আবেদন আইডি’ এবং দ্বিতীয়টি হলো আবেদনকারীর ‘জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর’।
মোবাইল দিয়ে ই-নামজারি আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা কীভাবে চেক করব?
আপনার স্মার্টফোনের যেকোনো ব্রাউজার থেকে প্রথমে mutation.land.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এরপর হোমপেজ থেকে ‘আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা’ অপশনটি নির্বাচন করুন। সেখানে আপনার বিভাগ সিলেক্ট করে আবেদনের আইডি ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরটি দিন। সর্বশেষে স্ক্রিনে দেখানো একটি সহজ গাণিতিক ক্যাপচা সমাধান করে ‘খুঁজুন’ বাটনে চাপ দিলেই আপনার আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাস বা অবস্থান জানতে পারবেন।
অনলাইনে জমির খারিজ বা ই-নামজারি যাচাই করার সরকারি ওয়েবসাইট কোনটি?
ই-নামজারি বা জমির খারিজের আবেদন এবং এর বর্তমান অবস্থা যাচাই করার মূল অফিশিয়াল ওয়েবসাইট হলো mutation.land.gov.bd। এই পোর্টালে প্রবেশ করে যেকোনো নাগরিক ঘরে বসেই তাদের নামজারি আবেদনের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারেন।





